নিরাপত্তাজনিত কারণে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই অবস্থানে অনড় থেকে কড়া বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের জায়গায় অন্য কোনো দলকে যুক্ত করা হবে।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) মাত্র এক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া না এলে বিকল্প দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিকেল তিনটায় শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে খেলোয়াড়দের মতামত, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দেশের সামগ্রিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ ইস্যুতে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিসিবি সরকারকে কোনো ধরনের চাপ দিতে চায় না। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী, শর্ত শুধু একটাই—ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন।
আইসিসি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এখন পুরো বিষয়টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আজকের বৈঠক শেষে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আজই আইসিসিকে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না হলে তা দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ নাকি আন্তর্জাতিক চাপ—কোনটিকে প্রাধান্য দেয় বাংলাদেশ।




