মঙ্গলবার

০২:০৬:৩৯

৩ নভেম্বর, ২০২৬

১৮ কার্তিক, ১৪৩৩

২০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

Edit Content
সর্বশেষ
  1. Home
  2. Lead
  3. বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে বড় পদক্ষেপ : ইন্টারনেট ও ট্রেন-মেট্রো বন্ধ

আর্কটিক দখলের কৌশলে ফিনল্যান্ড থেকে আইসব্রেকার কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

আর্কটিক দখলের কৌশলে ফিনল্যান্ড থেকে আইসব্রেকার কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যখন তুঙ্গে, তখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক কৌশলগত পদক্ষেপ নিল। গ্রীনল্যান্ডের মালিকানা প্রসঙ্গ বারবার আলোচনায় আনার মধ্যেই ওয়াশিংটন ফিনল্যান্ডের কাছে আইসব্রেকার জাহাজ অর্ডার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিসিবি’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও উপস্থিতি জোরদার করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে অবস্থিত আকার আর্কটিক টেকনোলজি ল্যাবরেটরিতে বর্তমানে চলছে পরবর্তী প্রজন্মের আইসব্রেকারের নকশা পরীক্ষা। সেখানে ৭০ মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্যাঙ্কে একটি ক্ষুদ্র মডেল বরফভাঙা জাহাজ ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বরফের জমাট পৃষ্ঠ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাই এই প্রযুক্তির মূল শক্তি।

প্রকৌশলী রিয়িকা মাতালা জানান, আইসব্রেকারের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের শক্তি ও সামগ্রিক কার্যক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মিকা হোভিলাইনেন বলেন, জাহাজের আকৃতিই বরফ ভাঙার মূল চাবিকাঠি। তাঁর ভাষায়, “হাল এমন হতে হবে, যা বরফকে কেটে নয়, নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভেঙে ফেলবে।”

আইসব্রেকার নির্মাণে ফিনল্যান্ড বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ আইসব্রেকারের নকশা ফিনিশ কোম্পানির তৈরি এবং প্রায় ৬০ শতাংশ জাহাজ নির্মিত হয় ফিনল্যান্ডের শিপইয়ার্ডে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আর্টিকার প্রধান নির্বাহী মাউনু ভিসরি বলেন, শীতকালে ফিনল্যান্ডের সব বন্দরই বরফে জমে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। অথচ দেশের ৯৭ শতাংশ আমদানি নির্ভর করে সমুদ্রবন্দরের ওপর। তাই আইসব্রেকার ফিনল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।

এই বিশ্বখ্যাত দক্ষতার কারণেই গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য ফিনল্যান্ড থেকে চারটি আইসব্রেকার কেনা হবে। আরও সাতটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হবে, তবে সেগুলোতে ব্যবহৃত হবে ফিনিশ নকশা ও প্রযুক্তি। এসব জাহাজকে ‘আর্কটিক সিকিউরিটি কাটার’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে জাহাজ নির্মাণের আইন শিথিল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, রাশিয়া ও চীনের আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ কমে যাওয়ায় আর্কটিক অঞ্চলে নতুন বাণিজ্যপথ ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে—যা এই কৌশলগত সিদ্ধান্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এমএফ/বিকল্পকন্ঠ
#ArcticStrategy #Icebreaker #USA_Finland #GlobalGeopolitics #ClimateAndSecurity

আরও পড়ুন

Scroll to Top