সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন নাগরিক শোকসভা প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেছেন, “খালেদা জিয়া অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাকে অনন্তকাল স্মরণে রাখবে তার দেশপ্রেম, সাহস, সততা, ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করার অপরিসীম শক্তির জন্য।”
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই শোকসভায় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া এই দেশ ও জনপদকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। “এই দেশের তৃণলতা, ফুল-পাখি এবং পানিকে তিনি ভালোবাসতেন। এই পানির অধিকার রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন,”—বলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন স্মরণ করে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ তার তিনটি উক্তিকে ‘অমর বাণী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এক—দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। দুই—আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে বন্দির শৃঙ্খল। তিন—দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশই আমার শেষ ঠিকানা।”
তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সময়ের মৃত্যু হয়নি, ইতিহাসের মৃত্যু হয়নি। বরং আগামী দিনের ইতিহাস গঠনের চালিকাশক্তি হয়ে থাকবেন তিনি ও তার আদর্শ। মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন।”
শোকসভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। সভায় বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা।
শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এই স্মরণসভায় অংশ নেন।
নাগরিক শোকসভাটি পরিণত হয় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনে।




