ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবার চমকপ্রদ ছন্দ, সুর আর লিরিকের থিম সংে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। প্রথাগত মাইকিং ও পোস্টারিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছে একেবারে নতুন মাত্রা। বাংলার চিরায়ত সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে চলছে রীতিমতো সৃজনশীল প্রতিযোগিতা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোট। আগের তিন দফা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটের পরিবেশ ও অংশগ্রহণ নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উৎসবমুখর পরিবেশ না থাকায় ভোটারদের আগ্রহও কমে যায়। তবে এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে প্রচারণার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। দলীয় থিম সং, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও, এমনকি ব্যঙ্গাত্মক প্যারোডিও জায়গা করে নিচ্ছে প্রচারে।
এই ধারায় বিএনপি প্রকাশ করেছে তাদের অফিসিয়াল থিম সং— ‘ভোট দিবেন কিসে, ধানের শীষে’। গানটিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’সহ দলীয় স্লোগান, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং আবহমান বাংলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশের পর থেকেই গানটি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভিন্ন আঙ্গিকে শাহবাগে বসে উদ্বোধন করেছে তাদের থিম সং— ‘ভোটের মিছিলে আমার প্রতীক শাপলা কলি’। গানটিতে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, তরুণদের জীবনসংগ্রাম ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা উঠে এসেছে।
জামায়াতে ইসলামীও পিছিয়ে নেই। আনুষ্ঠানিক থিম সং প্রকাশ না হলেও সমর্থকদের তৈরি একাধিক গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও ভোটারদের সচেতন করতে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বিশেষ থিম সং প্রচার করছে।
শব্দদূষণ ও যানজটের প্রচলিত প্রচারণার বদলে এই ডিজিটাল ধারাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ। ভোটের গানের সঙ্গে মিলিয়ে রিলস ও শর্ট ভিডিও বানিয়ে নিজেরাই হয়ে উঠছেন প্রচারণার অংশ।




