নির্বাচনে দলীয় বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে কোস্ট গার্ডসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, ডাকাতি ও জলদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধারেও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করা, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র ও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাহিনীটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতেও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাহিনীটির প্রশংসা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




