বুধবার

০৪:৪৬:০৯

৪ নভেম্বর, ২০২৬

১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

২১ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

Edit Content
সর্বশেষ
  1. Home
  2. সোশ্যল মিডিয়া
  3. সিন্ডিকেট মুক্ত বায়রা গঠনে লক্ষ্য হল ঐক্যবদ্ধতা | BAIRA | বিকল্প কন্ঠ | Bikalpo Kontho

বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা ছাড়া কোন উপায় দেখছে না ভারত !

বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা ছাড়া কোন উপায় দেখছে না ভারত !

বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পক্ষপাত ও একমুখী বয়ান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এসব প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকা ও উত্থানকে বারবার আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ‘উগ্রবাদ’-এর সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ফার্স্টপোস্ট, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার পত্রিকা ও রিপাবলিক বাংলার প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায় এবং তারা বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। বিজেপিপন্থি ফার্স্টপোস্টের সম্পাদক পালকি শর্মার বিশ্লেষণে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে—জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকায় জামায়াত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে প্রচার করছে।

অন্যদিকে বাস্তবতা হলো, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির টানা পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পেলেও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই জনসমর্থনকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘র‍্যাডিক্যালাইজেশন’ বা উগ্রবাদের বিস্তার হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।

আনন্দবাজার পত্রিকায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন দলটি আগেই পরাজয় স্বীকার করে প্রশাসনের ওপর দায় চাপাচ্ছে। অথচ জামায়াতের দাবি ছিল—প্রশাসনের ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের এক অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া এখনো বাংলাদেশকে একাত্তরের পুরোনো ফ্রেমে বিচার করছে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনমতের পরিবর্তন তারা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের পতনের পর ভারত এখন বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হলেও জামায়াতকে তারা ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছে। ফলে মিডিয়ার মাধ্যমে জামায়াতকে দানবীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে দলটি রাজনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বিবিসি ও আলজাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জামায়াতের রাজনৈতিক পুনর্বাসনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে এবং সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মত দিচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, ভারতীয় মিডিয়ার এই ধারাবাহিক প্রচারণা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশি জনমনে ভারতবিরোধী অনুভূতি আরও তীব্র করতে পারে।

 

এমএফ/বিকল্পকন্ঠ
#বাংলাদেশনির্বাচন #ভারতীয়মিডিয়া #জামায়াতইস্যু #দক্ষিণএশিয়ারাজনীতি #মিডিয়াবায়াস

 

আরও পড়ুন

Scroll to Top