ভারত ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবং আইপিএল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ।
খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিপিএল হোস্টিং প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়। এই ঘটনার পেছনে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক এবং ক্রীড়া-সংক্রান্ত উত্তেজনাকে যুক্ত করা হচ্ছে।
কিন্তু নিজের পক্ষ থেকে রিধিমা পাঠক এসব প্রতিবেদন উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজ উদ্যোগে বিপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “গত কয়েক ঘণ্টায় এমন একটি কাহিনী তৈরি হয়েছে যে আমাকে বিপিএল থেকে ‘ছাঁটাই’ করা হয়েছে। এটি সঠিক নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজ ইচ্ছায় এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আমার জন্য আমার দেশ সর্বদা প্রথম। আমি ক্রিকেটকে কোনো একক দায়িত্বের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিই। দীর্ঘ বছর আমি এই খেলাকে সততা, শ্রদ্ধা ও উদ্দীপনার সঙ্গে সেবা করেছি এবং তা কখনো বদলাবে না।”
উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় গত ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছাড়তে নির্দেশ দেয়। এর জবাবে বাংলাদেশ সরকার দেশজুড়ে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয় এবং তাদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় স্থানান্তরের দাবি করে।
বিপিএল প্যানেল ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রতিবেদন এই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। তবে পাঠকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের ইচ্ছায় নেওয়া। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি সততা, স্পষ্টতা এবং খেলার আত্মার পক্ষে দাঁড়াতে থাকব। ধন্যবাদ সবাইকে যারা সমর্থন জানিয়েছেন। আপনারা পাঠানো বার্তা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট সত্যের দাবি রাখে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বিভ্রান্তি দ্রুত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। রিধিমা পাঠকের এই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দুই দেশের ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এমএফ/বিকল্পকন্ঠ




