চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। এই মামলাকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমন প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতেই এ চার্জ দাখিল করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “জুলাই-আগস্টে মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। আজ এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে এই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, যিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অভিযুক্তরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতার দায় এড়ানোর সংস্কৃতি ভাঙতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে মামলাটির শুনানিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশা করছেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ও নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।




