জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) বেলা ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। গত ২২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করে এবং দুই আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে রংপুরে আবু সাঈদসহ এক হাজার ৪০০–এর বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে এবং ইমরান হোসেনসহ ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতরভাবে আহত করে।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় এই দুই আসামির নির্দেশ ও সহায়তায় সিফাত হাওলাদারকে হত্যা করা হয় এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আখতারুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ওই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন। বাকি অভিযোগগুলোতেও একইভাবে গণহত্যা, গুরুতর জখম, নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়।
ট্রাইব্যুনাল মনে করেন, প্রাথমিকভাবে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিচারযোগ্য। ফলে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই মামলাকে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।




