ইরানে আটক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর না করতে তেহরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে “খুব শক্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপ” নেবে ওয়াশিংটন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ফাঁসির তালিকায় থাকা এক তরুণ ইরানি বিক্ষোভকারীর নাম প্রকাশ করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ জানায়, ওই বিক্ষোভকারীর নাম ইরফান সোলতানি, বয়স ২৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ১৪ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই ইরফান সোলতানিকে ফাঁসির মুখোমুখি করা হচ্ছে। একই পোস্টে আরও বলা হয়, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ১০ হাজার ৬০০–এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে দেশটি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার ও হত্যার পর যদি আবার ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তাহলে ইরানের জন্য এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল কথা বলেই থেমে থাকবে না; প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানি জনগণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি মানবিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সহযোগিতা বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ, সম্ভাব্য ফাঁসি কার্যকর এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ককে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমএফ/বিকল্পকন্ঠ




