পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আবারও লটারি পদ্ধতি ফিরিয়ে আনল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ার আনুপাতিক হারে নয়, বরং আগের মতো লটারির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পাবলিক অফার অফ ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, পরিচালক মো. আবুল কালাম, অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির এবং যুগ্ম পরিচালক শরিফুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইপিওতে লটারি প্রথা বাতিল করে যে আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ ব্যবস্থা চালু ছিল, তা বিনিয়োগকারীদের জন্য জটিল ও অংশগ্রহণে নিরুৎসাহজনক হয়ে উঠেছিল। সে কারণে সংশোধিত বিধিমালায় আবারও লটারি ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিওতে অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে কমিশন।
সংশোধিত বিধি অনুযায়ী, পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার কম এমন কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে না। পাশাপাশি আইপিওতে আসা কোম্পানিকে তার মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। আইপিও–পরবর্তী সময়ে কোম্পানির মোট মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। অর্থাৎ, ৩০ কোটি টাকার মূলধনের কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে চাইলে তাকে অন্তত ২০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। তবে শক্ত মৌলভিত্তির বহুজাতিক ও বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল থাকবে।
নতুন বিধিতে স্টক এক্সচেঞ্জকে আরও ক্ষমতাশালী করা হয়েছে। আইপিওতে আসতে আগ্রহী কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা, বস্তুনিষ্ঠ মতামত প্রদান এবং প্রয়োজনে কারখানা ও কার্যালয় পরিদর্শনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জকে। স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিপক্ষে মত দিলে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিএসইসিতে আপিল করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আইপিও বাজারে আস্থা ফিরবে এবং পুঁজিবাজারে নতুন ও ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে।
এমএফ/বিকল্পকন্ঠ




