নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর আবারও নিজেদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে, বন্ধের নোটিশের সময় শেষ হওয়ার পর ইরানের আকাশসীমায় পুনরায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বখ্যাত ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ নিশ্চিত করেছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া আকাশসীমা বন্ধের নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই দেশটির আকাশপথে বিমান প্রবেশ করতে শুরু করে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে তেহরান কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং দেশব্যাপী চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়ে এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হয়।
এদিকে গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে জানান, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকেও বিরত রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য আগের তুলনায় কিছুটা নরম হলেও তিনি স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, মসজিদ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে আর প্রকাশ্য বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না। আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়াকে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: তুর্কি টুডে




