মঙ্গলবার

০১:০৩:০১

৩ নভেম্বর, ২০২৬

১৮ কার্তিক, ১৪৩৩

২০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

Edit Content
সর্বশেষ
  1. Home
  2. Lead
  3. বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে বড় পদক্ষেপ : ইন্টারনেট ও ট্রেন-মেট্রো বন্ধ

ইরানের চাপে চাবাহার বন্দর নিয়ে ট্রাম্পকে মানাতে মরিয়া ভারত

ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে যুক্ত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির পর চাবাহার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবুও ভারত স্পষ্ট করেছে, এই বন্দর থেকে সরে আসার কোনো বিকল্প তাদের কাছে নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চাবাহার বন্দরে কাজ অব্যাহত রাখতে তারা নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের নির্দেশিকা জারি করেছিল, যা আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করার বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি।”

নয়াদিল্লির কাছে চাবাহার কেবল বাণিজ্যিক বন্দর নয়, বরং এটি ভারতের ভূরাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তান স্থলপথ আটকে রাখায় চাবাহারই ভারতের একমাত্র বিকল্প। এছাড়া বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে, যা যেকোনো পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবমুক্ত। ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর (আইএনএসটিসি) দিয়ে ভারত মহাসাগর ও পারস্য উপসাগরকে কাস্পিয়ান সাগর এবং উত্তর ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যেখানে সুয়েজ খালের তুলনায় সময় ১৫ দিন কম লাগবে।

২০২৪ সালে ভারত ইরানের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) চাবাহারে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ১২০ মিলিয়ন ডলারের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লি পরিকল্পনা করছে, সরাসরি ঝুঁকি কমাতে একটি স্বতন্ত্র সত্তা তৈরি করবে, যাতে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকে।

ভারতীয় সরকারি সূত্রের মতে, মার্কিন শুল্ক হুমকি সামান্য প্রভাব ফেলবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্যে স্থিতিশীল বাণিজ্য পথ অপরিহার্য। চাবাহার বন্দর সেই লক্ষ্য পূরণের কেন্দ্রবিন্দু।

 

এমএফ/বিকল্পকন্ঠ
#চাবাহার #ভারত #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #কূটনীতি

 

আরও পড়ুন

Scroll to Top