বুধবার

০৩:২০:২২

৪ নভেম্বর, ২০২৬

১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

২১ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

Edit Content
সর্বশেষ
  1. Home
  2. সোশ্যল মিডিয়া
  3. সিন্ডিকেট মুক্ত বায়রা গঠনে লক্ষ্য হল ঐক্যবদ্ধতা | BAIRA | বিকল্প কন্ঠ | Bikalpo Kontho

একাধিক ব্যাংকে শেয়ার সীমিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

একাধিক ব্যাংকে শেয়ার সীমিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের ওপর নতুন সীমা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০২৫ সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, পরিবারের সদস্য বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একাধিক ব্যাংকে একযোগে ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি একটি ব্যাংকের মোট শেয়ারের ২ শতাংশ বা তার বেশি ধারণ করে, তবে অন্য কোনো ব্যাংকে একই সময়ে ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার রাখতে পারবে না।

এ ছাড়া সরকার, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে ব্যাংকে ভোটাধিকার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেউ ১০ শতাংশ শেয়ার রাখলেও ভোট দিতে পারবেন সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের সমপরিমাণ।

এই প্রস্তাব নিয়ে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০২৫-এর ১৪খ ধারায় নতুন করে তিনটি উপধারা যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সভায় বলেন, অতীতে একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী একসঙ্গে ছয়টি ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারণ করে নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করেছে। এর ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে এবং বিপাকে পড়েছেন লক্ষাধিক আমানতকারী। গত বছর একীভূত করা পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে জনগণের অর্থ থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে বিএবি প্রতিনিধি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তেমন প্রভাব রাখতে পারেন না; প্রকৃত ক্ষমতা থাকে পরিচালনা পর্ষদের হাতে। যেহেতু ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদে এক পরিবারের সদস্যসংখ্যা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাই শেয়ার ধারণে আলাদা সীমা আরোপ অযৌক্তিক।

বিএবি আরও প্রস্তাব দিয়েছে, পরিবার বলতে শুধু স্বামী-স্ত্রী ও নির্ভরশীল সদস্যদের বোঝানো হোক এবং একই পরিবারের শেয়ার ধারণের সীমা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হোক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, আইন সংশোধনী চূড়ান্ত করতে আরও আলোচনা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএবির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে উভয় পক্ষকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমএফ/বিকল্পকন্ঠ
#ব্যাংকিংখাত #বাংলাদেশব্যাংক #ব্যাংককোম্পানিআইন #শেয়ারধারণ #অর্থনীতি

আরও পড়ুন

Scroll to Top