ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ — গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের স্বার্থে আগামী জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল, যার ক্ষতিকর প্রভাব এখনো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত পলিসি সামিটের উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সামিটে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদার ভূমিকা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো নির্বাচনই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে অবস্থানের শর্তে যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আগামীর অগ্রযাত্রায় সঙ্গী হতে প্রস্তুত জামায়াতে ইসলামী। তার মতে, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে সর্বাগ্রে রাখতে হবে।
একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতা ও সহনশীলতার রাজনীতি চর্চা করা জরুরি। তাহলেই দেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা নীতি-ভিত্তিক রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি জোরদারে আলোচনায় অংশ নেন। পলিসি সামিটকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন সংলাপ ও ঐকমত্যের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।




