জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন দেবেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, উসকানি ও সরাসরি নির্দেশনার অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন—সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে রাজনৈতিক নির্দেশে সংগঠিত হামলা চালানো হয়। এতে প্রাণহানি, গুরুতর আহত ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় শক্তি ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছিল—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি গৃহীত হয়েছে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার মামলায় আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এ মামলাকে ঘিরে ট্রাইব্যুনালে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে ২০১৬ সালে ঢাকার কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’তে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে নয় তরুণ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানিও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উক্ত মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব মামলার মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলাগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা রোধে এটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




