জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরাঞ্চলকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে অসংখ্য তরুণ আজ চাকরির খোঁজে রাজধানীমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা বেকার ভাতা দেব না; বরং যুবকদের সম্মানের সঙ্গে আয় করার মতো কাজের সুযোগ সৃষ্টি করব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যের ভান্ডার হলেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পায় না। হাটবাজারে চাঁদাবাজি চলছে। ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি নির্মূল করে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পর্যায়ক্রমে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে উন্নত ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামীর রাষ্ট্র নির্মাণে নারী, তরুণ ও শিশুদের সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারী ও যুব সমাজকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করা হবে।
উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গাইবান্ধায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ইপিজেড বাস্তবায়ন, বালাসী ঘাটে টানেল নির্মাণ এবং ফুলছড়ি-সাঘাটাসহ বিভিন্ন নদী শাসন প্রকল্প নেওয়া হবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেব না। দেশের আকাশে যে কালো ছায়া এখনও রয়ে গেছে, তা দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে সাধারণ নির্বাচনও সফল হবে। জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
তিনি জানান, গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করাই জামায়াতের লক্ষ্য। সরকার গঠন করতে পারলে প্রথমেই দৃষ্টি দেওয়া হবে উত্তরাঞ্চলের মরা নদীগুলো পুনরুজ্জীবনের দিকে।
জনসভায় গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন তিনি।




