যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ইরান সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বিশাল এক বহর, যার আকার সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় পাঠানো নৌবহরের চেয়েও বড়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে ওয়াশিংটন আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে—হুমকি ও চাপের পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। একই দিনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হুমকির পথ পরিহার করে, তাহলে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান।
মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে আরাগচি আরও বলেন, “ইরান আলোচনার জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনি যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।” তিনি দাবি করেন, তেহরান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী এবং সে লক্ষ্যে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে চায়।
এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে এগিয়ে এসেছে তুরস্ক। এর আগে শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে ‘মধ্যস্থতাকারী’ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও ইরানের কূটনৈতিক সতর্ক অবস্থান—দুই মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।




